Posts

নিস্তব্ধ রাতের কবিতা

জোনাকির মত মিটমিট করা নিস্তব্ধ রাত্রিগুলো অতিক্রান্ত হয় তোমার অপেক্ষায়, রাস্তায় জ্বলতে থাকা একাকী আলোগুলি তোমার মুখের কাছে লাগে নিষ্প্রভ, যতদিন যায় আরো বেশি করে আকড়ে ধরি বুকে এই বুঝি করলে আমার প্রতি নীরব অভিমান, শেষ রাতগুলো ঠোঁটে তোমার এঁকে চলি মাস্টারপিস ছবি বুকের উপর ঠোঁট বুলিয়ে জন্ম দি গ্রীক দেবীদের মত ভাস্কর্য আকাশ ফুটে যখন হয় আলো আমিও ঠোঁটে তোমার উলঙ্গ শরীরে ছুঁয়ে শুষে নি একে একে রূপ,যৌবন, মাধুর্য এই রূপের উপর যে শুধু আমারই অধিকার প্রিয়তমা, আমিই আগলে রাখবো সারাজীবন, এভাবে প্রেমিকের উপর মান করতে হয়? তাকিয়ে দেখো রাতের তারাদের দিকে তারাও সেই কথা বলছে, আমার হয়ে তোমায় ।

কোটি কোটি প্রদীপের আলোও তমসাচ্ছন্ন আকাশ ঢাকতে অক্ষম

কোটি কোটি প্রদীপ ব্যর্থ তমসাচ্ছন্ন আকাশ ঢাকতেঃ মোমবাতি ও আতসবাজির রোশনাই কতটুকু হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মিছিল আলোকিত করলো তার উত্তর অজানা। যদি তার কয়েক ফোটা আলো শিশিরকণার মতো সেই তিন - চারশো মাইলব্যাপী মিছিলের উপর ঝরে পড়তো, হয়তো তাহলে আমরা এমন বিভীৎস্য আনন্দ যজ্ঞে মেতে উঠতাম না। দিল্লির রেস্তোরাঁতে কর্মরত রণবীর সিংহকে ৩০০ কিমি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ক্লান্তি ও অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে লুটিয়ে পড়তে হত না। এই মুহূর্তে খুব জানতে ইচ্ছে করছে সেইসব দিন আনি দিন খাই খেটে খাওয়া মানুষদের কথা। তারা কি উল্লাসিত হয়ে মোমবাতি জ্বালানোর আনন্দ যজ্ঞে মেতে উঠেছিল? সম্ভবত না। সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের হয়তো 'মন কি বাত' শুনে দেশপ্রেম জাহির করার অবসরটুকু নেই। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর মূল শ্রোতা রামভক্তদের কানে তা ঠিক পৌঁছে যাচ্ছে। অতঃপর ভক্তগণ প্রসন্নচিত্তে সেইসব উপদেশ সোৎসাহে পালন করেছেন। আমাদের দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষের বাধা মাইনের চাকরি নেই। আবার শহরে ৩৫ - ৪০ শতাংশ গরিবের বাস। এদের বেশিরভাগ লোকজনের বাস বস্তি এলাকায়। এদের 'ওয়ার্ক ফ্রম হোমের' সুযোগ নেই। ফলে মাসের শেষে বাড়ি...

চেয়ার

অফিস ঘরে রিভলভিং চেয়ারটা ঘুরছিলো বনবন করে কারোর উপস্থিতির তোয়াক্কা না করেই, মানুষের যৌবন ও বৃদ্ধাবস্থা দুই দেখেছি আমি সবাই আসে অপুর মতো নিষ্পাপ একজোড়া চোখ নিয়ে কিন্তু ঐ শালা অভিশপ্ত চেয়ার, মানুষগুলোকে পরিণত করে - এক একটা শয়তানে! একদিন টবের শৌখিন গাছে জল দিতে দিতে চেয়ারকে শুধিয়েছিলাম - কেন তুমি মানুষগুলোকে লোভাতুর করে তোলো? কি আনন্দ পাও মানুষের সর্বনাশ করে? পাক খেতে খেতে চেয়ার উত্তর ছুঁড়েছিলো - মানুষেরা নাকি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব! একটি জড়বস্তুর লোভে তারাই এতো নিচে নামে কি করে?